ব্লগার বিশেষজ্ঞ হয়ে যান, ব্লগার টিউটোরিয়াল: আদ্যোপান্ত (পর্ব-১; ব্লগের ইতিহাস এবং ব্লগার শুরু)

Blogger বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফ্রী ব্লগিং প্লাটফর্ম। টেক জায়ান্ট Google এর একটি সেবা হল Blogger। ফ্রী অনলাইন ব্লগ তৈরির জন্য...

Very Recent Posts

রবিবার, ৯ জুলাই, ২০১৭

ফ্রীলান্সিং বা আউটসোর্সিং, কি? কেমন করে? কেন? কিভাবে? ( ফ্রীলান্সিং এর আদ্যোপান্ত, মেগা পোস্ট)

ফ্রীলান্সিং বা আউটসোর্সিং, কি? কেমন করে? কেন? কিভাবে? ( ফ্রীলান্সিং এর আদ্যোপান্ত, মেগা পোস্ট)


ফ্রীলান্সিং(মুক্তপেশা) বা আউটসোর্সিং(ইহার কোন বাংলা প্রতিশব্দ পাওয়া যায় নায়, আশা করি খুব তাড়াতাড়িই পাবো... বাংলা একাডেমী আছে না😜😜) শব্দদুটির যে কোন একটি শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ সামনে, পাশে কফির মগ নিয়ে অল্পবয়সী কোন তরুণ বা তরুণী ইন্টারনেটে কাজ করে যাচ্ছে মনের সুখে...😜😜😜...(আমেরিকাতেও মনে হয় কেউ এমন স্বপ্নের মত ফ্রিলান্সিং করে নাহ, আর বাংলাদেশে...😔😔)...

ফ্রীলান্সিং বা আউটসোর্সিং বলতে সাধারণত আমরা বুঝি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করে টাকা আয় করা, সাধারণ অর্থে ফ্রীলান্সিং এর সঙ্গা এটাই।


(Freelancing)ফ্রীলান্সিং কি?



Freelancing(ফ্রীলান্সিং) একটি ইংরেজী শব্দ। Free এবং Lancing দুটি আলাদা শব্দ থেকে Freelancing শব্দটির উৎপত্তি। Freelancing শব্দটির প্রথম অংশ Free শব্দটি এসেছে জার্মান ভাষা থেকে যার অর্থ To Love(ভালবাসতে/ভালবাসে), কে না ভালবাসে নিজের ইচ্ছামত সময়ে পছন্দের কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতে??? আর দ্বিতীয় অংশ Lancing এসেছে ফরাসি ভাষা থেকে যার অর্থ Hurl(সজোরে নিক্ষেপ করা)। হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন।
তাহলে ফ্রীলান্সিং এর অর্থ কি হল?? 😕😕😕😕
শাব্দিক অর্থ বের করতে গেলে আপনার মাথা নষ্ট না হলে আমাকে বলবেন, আপনার মত লিজেন্ডকে একবার না দেখে মরতে চাই না আমি।

ফ্রীলান্সিং হল মূলত, জীবিকা নির্বাহের জন্য কারো অধীনে না থেকে নিজের ইচ্ছা ও পছন্দমত কাজ করা।


এখনকার যুগে ফ্রিলান্সিং এর ধারণা প্রধানত ইন্টারনেট থেকে মুক্ত ভাবে আয়ের উপরেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু যে কোন ধরণের স্বাধীন পেশাই ফ্রীলান্সিং এর আওতাভুক্ত। এমনকি কৃষিকাজ, লেখালেখি, স্বাধীন যে কোন ব্যবসা, মুদি দোকানদারি(নিজে মালিক হলে), ড্রাইভিং(গাড়ি নিজের হলে), খামার ও পশুপালন এই বিষয়গুলোও ফ্রীলান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত।

যারা Freelancing করে তাদের বলা হয় Freelancer(ফ্রীলান্সার), সোজা বাংলায় মুক্তপেশাজীবি।


                    
                                      ফ্রিলান্সারদের সাধারণত ৪টি শ্রেনীতে বিভক্ত করা হয়।

১) Side-Project Freelancer(পার্শ্বিক মুক্তপেশাজীবি): এরা মূলত জীবিকার জন্য দৈনিক কোন একটি পেশার সাথে সম্পৃক্ত। তাদের দৈনিক পেশার কর্মকান্ড সম্পাদন করার পর তারা ফ্রীলান্সিং করে। অর্থাৎ এরা সম্পূর্ণ মুক্তপেশাজীবি বা ফ্রীলান্সার না, আংশিক মুক্তপেশাজীবি।

২) Full Time Freelancer(সার্বক্ষণিক মুক্তপেশাজীবি): জীবিকা অর্জনের জন্য সম্পূর্ণভাবে মুক্তপেশার উপর নির্ভরশীল। এরা পছন্দানুযায়ী একের পর এক ফ্রীলান্সিং জব করতে থাকে।

৩) Single Contract Freelancer(কন্ট্রাক ভিত্তিক ফ্রীলান্সার): কন্ট্রাক নেওয়ার মাধ্যমে ফ্রিলান্সিং করে। ক্লায়েন্টের সাথে কন্ট্রাক করে কোন একটি প্রজেক্ট নেয় এবং একটি প্রজেক্টই করে। সার্বক্ষণিক ফ্রিলান্সারদের মত একের পর এক জব করে না।

৪) Freelancer Business Owner(ফ্রীলান্সিং ব্যবসার মালিক): ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য যারা ফ্রীলান্সারদের কাছে নিজেদের সুযোগগুলি কম উপস্থাপন করে। তবে মাঝে মাঝে এরাও ফ্রিলান্স জব করে।


Freelancing এল কেমন করে?(ফ্রীলান্সিং এর ইতিহাস)



আধুনিক ফ্রীলান্সিং বলতে আমরা সাধারণত ইন্টারনেটে মুক্তপেশাকে বুঝলেও ফ্রিলান্সিং এর ধারণা আরো অনেক বিস্তৃত।  যে কোন ধরণের মুক্তপেশাকেই ফ্রীলান্সিং এর আওতায় ফেলার ফলে এর পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফ্রিলান্সিং এর ধারণা কিন্তু মোটেও আধুনিক কোন ধারনা নয়। ১৮-১৯ শতাব্দীতে ফ্রীলান্সিং এর ধারণা পাওয়া যায়। মনে করা হয় ১৮ শতাব্দীতে ফ্রীলান্সিং ধারনার উৎপত্তি। 'Freelance' শব্দটির প্রথম ব্যবহার পাওয়া যায় Sir Walter Scott এর ১৮১৯ সালে লেখা 'Ivanhoe' বইয়ে। যেখানে একজন লর্ড(রাজা বা আধিকারিক) তার সৈন্যদের উদ্দেশ্যে(বেতনভুক্ত সৈন্য) বলেন, 'I offered Richard the service of my Free Lances, and he refused them—I will lead them to Hull, seize on shipping, and embark for Flanders; thanks to the bustling times, a man of action will always find employment.'(বাংলা করি দিতে ফারতাম না, নিজেরা করি লন😉😉)। কিন্তু 'Freelance' শব্দটি ইংরেজি ভাষাতে আসে ১৮০০ সালের শুরুর দিকে তখন 'Freelance' দ্বারা বোঝানো হত একদল চিকিৎসক কাম সেবিকা/সেবকদের যারা যুদ্ধের ময়দানে যে পক্ষ বেশি টাকা দত তাদের সৈন্যদেরই চিকিৎসা/সেবা করত। P.G. Wodehouse ১৯৩০ সালে তার এক প্রবন্ধে একজন ফ্রিলান্সার লেখকের উল্লেখ করেন যিনি খুবই হাসিখুশি ফ্রীলান্সার জীবনযাপন করছিলেন।
১৯৬৯ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তলার উদ্দেশ্যে ARPANET(Advance Research Project Agency Network) নামক ইন্টারনেটের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরী করে। ১৯৯০ সালে ARPANET বন্ধ হয়ে Internet নামে চালু হয় আধুনিক ইন্টারনেট। এর  আগেই অবশ্য ১৯৮৯ সাল থেকেই ISP এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট উন্মুক্ত হয়। ইন্টারনেট ইতিহাস বাদ থাক আমরা ফ্রীলান্সিং এ ফিরে আসি। আধুনিক ফ্রিলান্সিং এর ধারণা তৈরী হয় ১৯৭২ সালে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এর অধ্যাপক Jack Nillies সর্বপ্রথম আধুনিক ফ্রিলান্সিং এর ধারনা বর্ণনা করেন। ৭০ এর দশকে ইন্টারনেট সাধারণের নাগালে না থাকায় ফ্রিলান্সিং এর ধারনা তখন খুব একতা বিকশিত হয় নি। ফ্রিলান্সিং মূলত জনপ্রিয় হয়ে উঠে ১৯৯৫ থেকে, ততদিনে ইন্টারনেট সাধারণের নাগালে চলে এসেছে ফলে এর পর থেকে ফ্রীলান্সিং এর জনপ্রিয়তা বাড়তেই থাকে। তবে ২০০১ এর পর আমেরিকার ফ্রিলান্সিং জোয়ারে একটু ভাটা পড়ে। অনেকে এর জন্য ৯/১১ কে দায়ী করেন। আবার ২০০৫ এর পর থেকে আমেরিকান ফ্রিলান্সারদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে এবং আশা করা যায় ২০২৫ এর মধ্যে আমেরিকার জনসংখ্যার ৫০% ই ফ্রিলান্সিং এর সাথে যুক্ত হবে।

আমেরিকার ফ্রিলান্সার আর সাধারণ চাকরিজিবিদের একটা গ্রাফ দেখলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।



আশা করা যায় সারা বিশ্বেই এই সময়ে ফ্রিলান্সারদের সংখ্যা বাড়বে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ এর মধ্যে বিশ্বে ফ্রিলান্সারদের সংখ্যা এখনের তুলনায় দ্বিগুণ হবে।

আনন্দের বিষয় হল বাংলাদেশে ফ্রীলান্সিং জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে আমদের ফ্রিলান্সাররা আর দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। আয় করছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে এ খাত থেকে আয় বাড়ছেই। ২০১৪-১৪ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার পরবর্তীতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়ে যায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলার 😊😊😊। আর এটাকার পুরোটাই বৈদেশিক মুদ্রায়...

বাংলাদেশের এই খাতে রয়েছে অপরিসীম সম্ভাবনা। কারণ:

* বাংলাদেশ ১২ ঘন্টা টাইম জোনে অবস্থিত। অর্থাৎ আমেরিকা বা ইউরোপে যখন রাত আমাদের এখানে তখন দিন।  অর্থাৎ ইউরোপ আমেরিকার ক্লায়েন্টদের কাজগুলো আমরা দিনে করতে পারব, যখন তারা ঘুমাবে। আবার ইচ্ছা করলে ২৪ ঘন্টাই কাজ করা সম্ভব।

* আমাদের দেশে রয়েছে প্রচুর বেকার যুবক, যারা চাকরি পাবার জন্য হণ্যে হয়ে ঘুরাঘুরি করছে... এসব বেকার যুবকদের যথাযোগ্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলে ফ্রীলান্সিং এ কর্মক্ষেত্র তৈরী করে দেওয়া সম্ভব।

* আমাদের দেশে শ্রমের মূল্য অনেক কম। কিন্তু আমাদের দেশে রয়েছে অনেক স্কিলড আর অভিজ্ঞ ফ্রিলান্সার, আবার নতুনদের ভালো প্রশিক্ষণ দিয়ে স্ক্লিওদ করে গড়ে তুললে ভালো কাজ পাওয়া সম্ভব। কেননা, ইউরোপ আমেরিকার কোন ফ্রীলান্সার কোন একটা কাজ যখন ৫০ ডলারের নিচে করে দিবে না আমাদের ফ্রিলান্সাররা সেটা ২০-২৫ ডলারের মধ্যেই করে দিবে।



ফ্রীলান্সিং কেন?



আসলে প্রশ্নটা হওয়া উচিত ছিল, ফ্রীলান্সিং কেন নয়??
ফ্রীলান্সিং এমন এক ক্ষেত্র যেখানে যে কোন বিষয়ে পারদর্ষী ব্যক্তিই কাজ করতে পারবে। কাজের ক্ষেত্র বিশাল। সারা পৃথিবী জুরে ফ্রীলান্সিং করার সুযোগ রয়েছে(নিজের ঘরে বসেই)। তারপরেও বলছি কেন ফ্রিলান্সিং; 

*ফ্রীলান্সিং হল মুক্ত পেশা। এখানে যে কেও তার পছন্দমত বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারে।

* কাজের জন্য কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই।

* কোন টাইম মত অফিস যাওয়া নেই। 

* নিজের মেধা বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ রয়েছে, যেটা সাধারন চাকরিতে নেই। 

* ঘরে বসেই কাজ করা যায়।

* স্কিলড হলে সাধারন চাকুরির চেয়ে অনেক বেশি আয় করা যায়।

* পরিপূর্ণ স্বাধীনতা।



ফ্রীলান্সিং কিভাবে?






ফ্রীলান্সিং এর প্রথম কথাই হল একজন ফ্রিলান্সার কোন একজন ক্লায়েন্টের সাথে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। ক্লায়েন্ট বা কর্মদাতা তার কাজটি করিয়ে নেওয়ার জন্য একজন ফ্রিলান্সারের সাথে সাময়িক একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হন। সেই চুক্তির মেয়াদ থাকে কাজটি বুঝিয়ে দেবার আগে পর্যন্ত। এখন একজন এমপ্লয়ার বা ক্লায়েন্ট বা কর্মদাতা যখন তার কাজটি কোন ফ্রিলান্সারকে দিবেন তিনি অবশ্যই চাইবেন তার কাজটি দ্রুত হোক এবং যাকে দিয়ে কাজটি তিনি করাচ্ছেন তিনি যেন অভিজ্ঞ ও স্কিলড হন যাতে তার কাজটি সূক্ষ্ম ভাবে সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ কোন ফ্রীলান্সারের অবশ্যই দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হওয়া খুনই জরুরি। তা না হলে কাজ পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে যাবে। সবসময়ই সেরা ফ্রীলান্সার কাজটি পেয়ে থাকেন।

ফ্রীলান্সিং এ যে কোন বিষয় নিয়েই কাজ করা সম্ভব। কোন ব্যাক্তি যদি রান্নায় পারদর্শী হয় তবে সেও ফ্রিলান্সিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবে। সে রান্না বিষয়ক একটা সাইট খুলে বা ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে নতুন নতুন এবং ভালো মানের রান্নার রেসিপি দেওয়ার মাধ্যমে ভাল আয় করতে পারবে। মুল কথা হল দক্ষতা থাকতে হবে। দক্ষতা থাকলে ফ্রিলান্সিং এ সফলতা আসবেই। তাই আজই আপনি কোন একটি বিষয় নিয়ে সর্বোচ্চ ধারণা নিয়ে নিন আর শিখে নিন, হয়ে উঠুন দক্ষ।

আয় করার উপায়:



ফ্রীলান্সিং থেকে আয় করার  বেশ অনেকগুলো উপায় রয়েছে;

* লেখালেখি ও অনুবাদ করে আয়: ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে আয় করতে পারেন লেখালেখি করে। বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, রিভিউ, বিষয়ভিত্তিক পোস্ট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ছোট গল্প, প্রাপ্তবয়স্কদের গল্প এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরকরণ করে আয় করতে পারেন টাকা। বাঙালিদের জন্য সুখবর হল বিশ্বের প্রথম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ techtunes.com থেকেও এখন আর্টিক্যাল লিখে আয় করা সম্ভব। তাছাড়া আয় করতে পারেন, writing.com, onlinewritingjobs.com বা poewar.com থেকেও। 

* প্রোগ্রামিং: কোড লিখে সরাসরি আয় করতে পারে getacoderjob.com থেকে। এখানে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কাজের জন্য কোডার বা প্রোগ্রামার খুঁজে থাকেন। আবার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে এন্ড্রয়েড এপ বা সফটওয়্যার বানিয়ে আয় করতে পারেন। এখানে আবার দুইভাবে আয় করতে পারেন। নিজে এপ বা সফটওয়্যার বানিয়ে তা থেকে আয় করতে পারবেন আবার অন্য কারো জন্য এপ বা সফটওয়্যার বানিয়ে দিয়েও আয় করতে পারবেন।

* ওয়েব ডেভেলাপিং এবং ওয়েব ডিজাইনিং: ওয়েব ডেভেলাপিং এবং ডিজাইনিং এর মাধ্যমে দুইভাবে আয় করা যায়। নিজের জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখান থেকে আয় অথবা অন্য কার জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে দেওয়া এবং ডিজাইন করে দেওয়া।

* গ্রাফিক্স ডিজাইনিং: গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এ ভালো দক্ষতা থাকলে আপনি বেশ কয়েকভাবেই এ থেকে আয় করতে পারবেন। অন্যের জন্য ডিজাইন করে দিয়ে আপনি আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন মাইক্রোস্টক সাইট থেকে আয় করতে পারবেন, এ সাইতগুলো থেকে আপনি প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার দেওয়া কোন একটি আইকন, লোগো, চরিত্র(কার্টুন), টেমপ্লেট বা ব্যাকগ্রাউন্ড এ ধরণের সাইটে আপলোড করার পর এটি ক্রমাগত বিক্রি হতে থাকবে আর আপনি লভ্যাংশ পেতে থাকবেন। এমন কিছু সাইট; shutterstock.com, fotolia.com, istockphoto.com, dreamstime.com । আনার বিভিন্ন কনটেস্টে অংশ নিয়েও আয় করতে পারেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর উপরেই হবে কনটেস্ট। এমন কিছু সাইট: 99designs.com, logotournament.com, designbyhuman.com ।

* ইন্টারনেট মার্কেটিং: ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সবচেয়ে বর প্লাটফর্ম হল Youtube । Youtube এ বিভিন্ন ভিডিও আপলোডের করে তাতে এড শো করিয়ে টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে এটা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং পেইড প্রোমশনের মাধ্যমেও আয় করা সম্ভব। Youtube এ আমার চ্যানেল

গ্রাহক সেবা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহককে টেলিফোন, ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহাজ্যে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

প্রশাসনিক সহায়তা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন কাজের ডাটা এন্ট্রি করণ, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা।

* PTC সাইট থেকে আয়: অনেকের মতে পিটিসি সম্পূর্ণই ভুয়া। কথাটা পুরোপুরি ঠিক না। কিছু কিছু পিটিসি সাইত সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন।

* এনভাটো মার্কেটপ্লেস থেকে আয়: এ ধরণের ডীজিটাল মার্কেটপ্লেস বিভিন্ন ধরণের কেনাবেচার সুবিধা দেয়। যেমন গাফিক ও্যার্ক, টেমপ্লেট, মকিউজিক, ভিডিও, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি। এমন কিছু সাইট: themeforest.net, graphicriver.com, 3docean.net, photodune.net ইত্যাদি। 

* প্লাগইন তৈরী: Wordpress শিখে নতুন নতুন প্লাগইন তৈরী করে তা থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব।




                                     আপনার ফ্রীলান্সিং জীবন সুন্দর হোক!




























মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭

ডিলেট হয়ে যাওয়া যে কোন ছবি, ভিডিও বা মূভি এবং ডকুমেন্ট রিকভার করুন সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে, এক বছর আগে ডিলেট হয়ে যাওয়া ফাইলও রিকভার করতে পারবেন পরিপূর্ণভাবে (Windows এবং Mac এর জন্য)

ডিলেট হয়ে যাওয়া যে কোন ছবি, ভিডিও বা মূভি এবং ডকুমেন্ট রিকভার করুন সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে, এক বছর আগে ডিলেট হয়ে যাওয়া ফাইলও রিকভার করতে পারবেন পরিপূর্ণভাবে (Windows এবং Mac এর জন্য)

পিসিতে  আমরা গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল এবং ফোল্ডার রাখি। এর মধ্যে আছে ছবি, মূভি বাঃ ভিডিও এবং কোন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। অনেক সময় ভুল করে আমরা অথবা অন্য কেউ না জেনে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় ফাইল পার্মানেন্টলি ডিলেট করে ফেলে। গুরুত্বপূর্ণ বাঃ দরকারি কোন ফাইল ডিলেট হয়ে গেলে স্বাভিবিকভাবেই আমরা খুবই সমস্যার মুখোমুখি হই। কোন ব্যাকাপ না থাকায় ফাইল আমরা ফিরিয়েও আনতে পারি না। 

আমাদের আজকের বিষয় হচ্ছে কিভাবে পার্মানেন্টলি ডিলেট হয়ে যাওয়া কোন ফাইল (ছবি, ভিডিও, মূভি, ইমেইল বা ডকুমেন্ট) রিকভার করব বাঃ ফিরিয়ে আনব। BackUp না দেওয়া থাকলে অপারেটিং সিস্টেম কোন ফাইল রিকভার করতে পারে না।

তো আপনি কিভাবে ফাইল রিকভার করবেন বাঃ ফিরিয়ে আনবেন?

যে কোন ধরণের ডাটা রিকভার করার জন্য আমরা Third Party Software ব্যবহার করব। Third Party Software কোন সফটওয়্যার এর নাম নয়। কোন প্রতিষ্ঠানের তৈরী সফটওয়্যার যা আমাদের পিসির ম্যানুফ্যাকচারের সাথে সম্পর্কিত নয় এবং অপারেটিং সিস্টেমের সাথেও সম্পর্কিত নয় সেই সফটওয়্যার কেই থার্ড পার্টি সফটওয়্যার বলে।
ফাইল রিকভারি করার বিশ্বসেরা দুইটি সফটওয়্যার হল Recuva আর EaseUs Data Recovery Wizard।সফটওয়্যার দুটোরই প্রো ভার্সন আর ফ্রী ভার্সন রয়েছে। প্রো ভার্সন টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয় আর ফ্রী ভার্সন ত ফ্রী ই। আপনি দুইটা সফটওয়ারের যে কোন একটা ইউস করবেন।
ডাউনলোড করে নিন Recuva অফিসিয়াল সাইট থেকে। অথবা,
ডাউনলোড করে নিন EaseUs Data Recovery Wizard অফিসিয়াল সাইট থেকে।

ডাউনলোড করার পরে ইনস্টল করে নিবেন। এরপর কিভাবে ফাইল রিকভার করবেন তা দেখার জন্য ভিডিওটা দেখুন:




চ্যানেল নতুন ক্রিয়েট করেছি। সামনে প্রযুক্তি বিষয়ক নানা ভিডিও আপলোড করব। সাবস্ক্রাইব করে সাথে থাকতে ভুলবেন না। আর কি বিষয় নিয়ে ভিডিও করা যায় অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০১৭

Ransomware ; বিশ্বজুড়ে বিভীষিকা, বেঁচে থাকুন Ransomware থেকে। র‍্যানসমওয়্যার কেন রানসমওয়্যারের বাপও পারবে না আপনার পিসিতে আক্রমণ করতে।

Ransomware ; বিশ্বজুড়ে বিভীষিকা, বেঁচে থাকুন Ransomware থেকে। র‍্যানসমওয়্যার কেন রানসমওয়্যারের বাপও পারবে না আপনার পিসিতে আক্রমণ করতে।


১৯/০৫/২০১৭, শুক্রবার

ইন্টারনেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় Ransomware হামলা হল বিশ্বের ৭৪টি দেশে। সোমবারের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে ৯৯টি দেশে। Encrypt করে দেয় ২,৫০,০০০ এরও বেশি কম্পিউটারের তথ্য। এর মধ্যে অনেক বড় বড় হাসপাতাল, রেলওয়ে স্টেশন, বিদ্যুৎ অফিস, গ্যাস স্টেশন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারও রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি দেশের ৩,৫০,০০০ এরও বেশি কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে এই WannaCry/ WCry/ WannaCrypt/ Wanna Decryptor/ WannaCrypt0r 2.0 নামের এই রানসমওয়্যার দ্বারা। বেশিরভাগ Microsoft Windows Operating System এর ব্যবহারকারীরা এই Ransomware দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।
Ransomware হচ্ছে এক ধরণের ম্যালওয়্যার। এ ধরণের ম্যালওয়্যারগুলো আক্রমণের পর কোন ক্ষতি না করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে Ransom বা মুক্তিপন দাবি করে। এই ধরণের ম্যালওয়্যার মূলত কম্পিউটারকে আক্রমণ করে সকল তথ্য সিজ করে ফেলে তথা কম্পিউটারের সকল তথ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে তার তথ্যসমূহ ব্যবহার বা তথ্যসমূহের প্রতি যে কোন রকম প্রবেশ থেকে বাধা দেয়।
 WannaCry রানসমওয়্যারটি কম্পিউটারের ডাটা Encrypt করে ফেলে এবং কম্পিউটারের ডাটা এবং তথ্য ফিরে পেতে ইউজারের কাছ থেকে ৩০০ডলার দাবি করে।



এই টাকা দেওয়ার জন্য তারা ৩দিনের(আক্রমণের সময় হতে) সময় বেধে দেয়। এই সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে পরবর্তিতে দ্বিগুণ টাকা দাবি করে। এবং সর্বশেষ টাকা পরিশোধের জন্য আক্রমণের সময় হতে সাত দিনের সময় বেঁধে দেয়। এর মধ্যেও টাকা না দেওয়া হলে সকল ডাটা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক এই সাইবার আক্রমণ নিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা:
১. এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের হাসপাতাল, স্পেনের কয়েকটি কোম্পানি, অন্য ১১টি দেশের পক্ষ থেকে আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, ৭৪টি দেশে ৪৫ হাজার আক্রমণ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ফেডেক্স, এনএইচএস, রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে।
৩. মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ত্রুটি কাজে লাগানো হয়েছে। গত এপ্রিলে শ্যাডো ব্রোকার্স নামের একদল হ্যাকারের বের করা নিরাপত্তা ত্রুটি ও প্রোগ্রাম কাজে লাগিয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
৪. যুক্তরাজ্যের ১৬টি হাসপাতাল আক্রমণের শিকার হয়েছে। চিকিৎসকেরা রোগীদের ফাইল দেখতে পারছেন না। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, কোনো রোগীর তথ্য চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
৫. ডক ফাইল থেকে শুরু করে মিডিয়া ফাইল, এক্সএল ফাইলসহ দরকারি সব ধরনের ফাইল আটকে রাখতে সক্ষম এটি।
৬. এ আক্রমণের দায় স্বীকার করেনি কেউ।
৭. Elliptic এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী $82,644.72(৬৬,৬০,৭৬০ টাকা) ডলার দেওয়া হয়েছে এই আক্রমণকারীদেরকে (Elliptic একটি বিককয়েন ফার্ম যা এই ঘটনাটি নজরদারি করছে)।

বাংলাদেশে অন্তত কয়েকশ' কম্পিউটার এই ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে যদিও মাত্র ৩০টি কমপিউটার আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে!!

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে যেহেতু এই ম্যালওয়্যারে জটিল কোন কোড ব্যবহার করা হয়নি (কোডটাকে আরো জটিল করা যেত) তাই সামনে আরো বড় ধরণের সাইবার হামলা অপেক্ষা করছে, হামলাকারিরা সম্ভবত বড় ধরণের কোন হামলার প্রিক্যুয়েল হিসবে এই হামলা করেছে, খবর নিউয়র্ক টাইমসের।   (সূত্র: প্রথম আলো)



হতে পারে আবার হামলা, আরো বড়সড় কোন সাইবার আক্রমণ!!!!!! 


আর ঠিক তাই কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে আজই আপনার কম্পিউটারকে হতে যাওয়া যে কোন ধরণের সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিন। 


কিভাবে আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষিত করবেন??


১) প্রথমত হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ কম্পিউটারই Windows 7 অপারেটিং সিস্টেমের।
    তো? আপনি কি উইন্ডোজ বদলে ফেলবেন?
না। আপনি Windows 7 এর লেটেস্ট সিকিউরিটি আপডেট ইন্সটল করে নিন।
কারণ হামলার স্বীকার সব কম্পিউটারই পুরনো Windows ব্যবহার করছিল। Microsoft ও তাদের বিবৃতিতে ব্যবহারকারীদের Windows আপডেট করে নিতে বলেছে।
২)  কোন ধরণের অপরিচিত ঠিকানা থেকে আসা যে কোন ইমেইল ওপেন না করা। এমনকি পরিচিত কোন ইমেইল থেকেও যদি কোন সন্দেহজনক মেইল আসে তবে তা না খোলা।
কোন ধরনের সন্দেহজনক ফাইল ডাউনলোড না করা। সন্দেহজনক কোন ওয়েবসাইটেও না যাওয়া।
৩) Windows এর সিস্টেমে চেঞ্জ করে। এটার দুটো পদ্ধতি রয়েছে। আমি দুটোই দেখিয়ে দিচ্ছি:


পদ্ধতি (i) Windows Firewall এর সেটিংস চেঞ্জ করে:

১) Control Panel এ যান। Start Menu তে গিয়ে যেতে পারেন।


২) System and Security তে গিয়ে Windows Firewall এ যান।

৩) Turn Windows Firewall On or Off এ যান।

৪) নিচের চিত্রের মত কনফিগার করুন।

৫) এখন Advance Settings এ গিয়ে Inbound Rules এ যান এবং তারপর New Rule এ ক্লিক করুন।


৬) Port সিলেক্ট করে Next ক্লিক করুন।

৭) TCP সিলেক্ট করুন এবং Specific Local Ports এ গিয়ে 445 দিয়ে Next ক্লিক করুন।

৮) Block The Connection এ টিক দিয়ে Next ক্লিক করুন।

৯) Domain, Private এবং Public তিনটিতেই টিক দিয়ে Next এ ক্লিক করুন।

১০) Name এর ঘরে 445 দিয়ে Finis এ ক্লিক করুন।

   445 সেভ হয়েছে দেখতে পাবেন।

১১) আবার একই ভাবে Inbound Rules এ গিয়ে New Rule এ যান এবং তারপর Port এ ক্লিক করে Next ক্লিক করুন। এবার এখান থেকে UDP সিলেক্ট করে Specific local ports এর ঘরে 445 দিন। এরপর Next এ ক্লিক করুন।


১২) Domain, Private এবং Public তিনটিতেই টিক দিয়ে Next এ ক্লিক করুন।

১৩) Name এর ঘরে 445 udp দিয়ে Finis এ ক্লিক করুন।

আপনার সেটিংস কমপ্লিট। এখন আপনার কম্পিউটার Ransomware এর আক্রমণের সম্ভাবনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।


পদ্ধতি (ii) Windows এর Feature চেঞ্জ করে:

১) Control Panel এ যান। Start মেনু থেকে যেতে পারেন।

২) Programs এ ক্লিক করুন।

৩) Turn Windows Feature On or Off এ ক্লিক করুন।

৪) ফিচার লিষ্ট থেকে SMB 1.0/CIFS File Sharing support অপশনটির টিক উঠিয়ে সেভ করে পিসি রিষ্টার্ট করুন।

   এখন আপনার পিসি Ransomware থেকে সুরক্ষিত।


যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরন করুন। দুই পদ্ধতি একসাথে মেশাবেন না।

৪) Anti-Ransomware সফটওয়্যারের মাধ্যমে:

সাধারন Anti-Virus গুলো Ransomware এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে পারে না, তাই আমাদের আলাদা Anti-Ransomware সফটওয়্যারের দরকার হয়।
Anti-Ransomware সফটওয়্যার গুলো আপনাকে যে কোন ধরনের Ransomware এর আক্রমণ থেকে বাঁচাবে। এবং কোনভাবে আপনার পিসি আক্রমণের শিকার যদি হয়েই যায় তবে এই সফটওয়্যারগুলো ফাইল Encrypt হতে দেবে না এবং Ransomware রিমোভ করে দিবে।

আর Anti-Ransomware সফটওয়্যার ব্যবহার করলে Windows এর কোন ধরনের সেটিংস পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, মানে কোন ঝামেলা নেই।


অনেক অনেক Anti-Ransomware সফটওয়্যার পাবেন নেটে। কিন্তু সবগুলো ভালো নয় আবার অনেক এই ধরণের সফটওয়্যার মুখোশের আড়ালে নিজেই Ransomware. তাই আপনাকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

আমার মতে আপনি IOBit এর Malware Fighter 5 এর Pro ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি Malware Fighter কিন্তু সেই সাথে এটি একটি দুর্দান্ত Anti-Ransomware । এর ফ্রি ভার্সনও আছে কিন্তু সেটাতে পুরোপুরি সুরক্ষা পাবেন না। আমি নিজে Malware Fighter 5 এর Pro ভার্সন ইউস করি, এবং বিশ্বাস করুন এটাই সেরা। 
পিসিতে Ransomware আক্রমণ করতে আসলে এটি আপনাকে ওয়ার্নিং দিবে এবং আপনি অনুমতি দিলে ডিলেট করে দিবে, অনুমতি না দিলে Ransomware টিকে Block করে রাখবে এবং যে কোন ধরণের Access থেকে বিরত রাখবে।
Malware Fighter 5 এর প্রো ভার্সন এক্টিভেশন কী দিয়েছি পোস্টের শেষে, কী দিয়ে আপনি ফ্রীতে প্রো ভার্সন এক্টিভ করে নিতে পারবেন। সো নো চিন্তা.........।



IOBit Malware Fighter 5 ডাউনলোড করে নিন IOBit এর অফিসিয়াল সাইট থেকে ফ্রীতে।

IOBit Malware Fighter 5 এর এক্টিভেশন কী: 38691-1AA05-4AE43-A0074

        

          সতর্ক থাকুন, আপনার সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধের ব্যবস্থা। 


বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

ব্লগার বিশেষজ্ঞ হয়ে যান, ব্লগার টিউটোরিয়াল: আদ্যোপান্ত (পর্ব-১; ব্লগের ইতিহাস এবং ব্লগার শুরু)

ব্লগার বিশেষজ্ঞ হয়ে যান, ব্লগার টিউটোরিয়াল: আদ্যোপান্ত (পর্ব-১; ব্লগের ইতিহাস এবং ব্লগার শুরু)

Blogger বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফ্রী ব্লগিং প্লাটফর্ম। টেক জায়ান্ট Google এর একটি সেবা হল Blogger। ফ্রী অনলাইন ব্লগ তৈরির জন্য Blogger সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম। Google এর নিজস্ব সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে Blogger এর সকল ব্লগ চালিত হয়। ব্লগারে তৈরি সকল ফ্রী ব্লগ .blogspot.com সাবডোমেইনে প্রকাশিত হয়।
Blogger সম্পর্কে জানার আগে আমরা Blog এবং Blogging এর ইতিহাস সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই।

ব্লগ(Blog) কি?


Blog(ব্লগ) একটি ইংরেজি শব্দ। এর উৎপত্তি আরেক ইংরেজি শব্দ Log থেকে। Log বলতে বোঝায় সময়োনুযায়ী কাজের নোট রাখা সহজ ভাষায় ডায়েরী লেখা। আমাদের মধ্যে অনেকেই ডায়েরি লিখি। সেখানে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজের কথা লিখি, আমাদের মনের কথা লিখি, আমাদের ইচ্ছাগুলো লিখি, কল্পনাগুলো লিখি আর যা ইচ্ছে লিখে রাখি। Web(ইন্টারনেটে) এ Log লিখলে সাধারণভাবেই তাকে বলা হবে Weblog(ওয়েবলগ)। এই Weblog শব্দ থেকেই Blog(ব্লগ) এর উৎপত্তি। ব্লগিং শুরুর প্রথমদিকে Weblog শব্দটিই প্রচলিত ছিল। ১৯৯৯ সালে Peter Merholz নামে এক প্রোগ্রামার Weblog কথাটিকে ছোট করে Blog করেন। Blog শব্দটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে যার ফলে লেখালেখির এই সম্পূর্ণ নতুন ধারার নাম হয়ে যায় Blogging । সাধারণভাবে ব্লগিং বলতে বোঝায় কোন একটি বিষয় বা কোন একটি ঘটনা নিয়ে ইন্টারনেট ভিত্তিক কোন ওয়েবপেজ এ বা ইন্টারনেটে লিখে তা সবার সাথে শেয়ার করা। যেসব ওয়েবসাইটে এই লেখাগুলো প্রকাশ করা হয় তাদের বলা হয় ব্লগ।


স্যার টিম বার্নাস লি HTML এর মাধ্যমে URL ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ধারনা প্রকাশের করে  ওয়েব সাইট বানানো সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসেন। ১৯৯৪ সালে সেই সময়কার Swarthmore College এর ছাত্র Justin Hall তৈরি করেন links.net নামে একটি সাইট যেখানে তিনি ব্যাক্তিগত Log লিখতে থাকেন। The New York Times Magazine এর মতে Justin Hall ব্যাক্তিগত ব্লগিং এর জনক(Founding Father Of Personal Blogging) । ১৯৯৪ সালেই Open Diary নামে আরেকটি ব্লগ চালু করেন Claudio Pinharez ।

 এসব কারণেই ১৯৯৪ সালকে ব্লগিং এর শুরুর সাল হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৯৯ সালটি হল ব্লগিং এর স্বর্ণালি বছর। এ বছর চালু হয় Blogger, LiveJournal এবং Xanga এর মত ব্লগিং সাইট।
প্রথমদিকের Blogger
LiveJournal


Xanga

Xanga কে ব্লগিং সাইট বলা হলেও এটি মূলত চালু হয় Social Networking সাইট হিসেবে, ২০০০ সালে Xanga ব্লগিং ফিচার এড করে। ২০০১ সাল পর্যন্ত ব্লগিং খুব বেশি জনপ্রিয় না হতে পারলেও ২০০২ এর পর ব্লগিংকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। Gawker, TheMommyBlog.com এর মত কয়েকটি ব্লগ চালু হয় ২০০২ এ, কিন্তু ২০০২ ব্লগিং এর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকার কারণ হল Google কর্তৃক ব্লগে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য AdSense চালু করা। AdSense চালুর ফলে হাজার হাজার ব্লগার তাদের ব্লগ থেকে আয়ের পথ খুঁজে পায়।

 AdSense এর কারণেই ব্লগিং শুধু একটা শখ হয়ে থাকেনি হয়ে উঠেছে সতন্ত্র একটি পেশা। বর্তমানে ব্লগ লিখে অনেকেই হাজার হাজার টাকা আয় করছেন AdSense এর মাধ্যমেই। প্রফেশনাল ব্লগারদের প্রথম পছন্দ WordPress চালু হয় ২০০৩ সালে। এছাড়া TypePad নামে আরেকটি ব্লগও চালু হয় এবছর।
প্রথমদিকের WordPress
TypePad
২০০৪-২০০৫ হল VideoBlog বা Vlog এর সূচনার সময়। যদিও ২০০০ সালেই VideoBlog এর ধারনা প্রকাশিত হয় কিন্তু মূলত ২০০৪ এই Video Blogging শুরু হয়। Steve Garfield(প্রথমদিকের ভ্লগারদের একজন) ২০০৪ কে " Year Of The Video Blog" বা "ভিডিও ব্লগিং এর বছর" হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০০৫ এ বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় Video Sharing এর সাইট YouTube চালু হয়। YouTube ভিডিও শেয়ারিং এর সাইট হলেও শুরুতে কিন্তু YouTube কোন Video Sharing সাইট ছিল না। YouTube তার যাত্রা শুরু করে একটি Fating Site হিসেবে যেখানে সিঙ্গেলরা নিজের সম্পর্কে রোমান্টিক তথ্যসহ ভিডিও আপলোড করে একে অপরের সাথে পরিচিত হত (২০০৫ এর ফেব্রুয়ারীতে YouTube যাত্রা শুরু করে Dating Site হিসেবে পরবর্তিতে ২০০৫ এর জুনে YouTube শুধু ভিডিও শেয়ারিং এর সাইত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে)।
প্রথমদিকে YouTube
ব্লগ লেখার ধারাবাহিকতায় ২০০৬-২০০৭ এ শুরু হয় MicroBlogging এর সাইটগুলোর। ২০০৬ এর মার্চে ১৪০ অক্ষরের MicroBlogging এর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট Twitter এর যাত্রা শুরু হয়। ২০০৭ এ MicroBlogging এর আরেক সাইট Tumblr চালু হয়।

 ২০১২ তে Blogger এর তৈরীকারক Pyra Labs এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Evan Williams ব্লগিং এর সম্পূর্ণ নতুন একটা প্লাটফর্ম তৈরী করেন যার নাম দেওয়া হয় Medium । এই মিডিয়াম এখন ব্লগিং দুনিয়ায় নতুন চমক সৃষ্টি করেছে।



Blogger(ব্লগার) কি?


ব্লগার(Blogger) হল ব্লগিং করার একটি প্লাটফর্ম। ব্লগারের জন্ম ১৯৯৯ সালের ২৩শে আগস্ট ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কোম্পানি Payra Labs এর হাত ধরে। পরবর্তীতে টেক জায়ান্ট Google ২০০৪ সালের ২রা মে তারিখে ব্লগার কিনে নেয় এবং নিজেরা এর Development শুরু করে। Blogger নামটা কিনে নেওয়ার পর Google দেয়। ব্লগার এ তৈরি সকল ব্লগের হোস্টিং হয় গুগলের নিজস্ব সার্ভারে .blogspot.com সাবডোমেইন এ।


ব্লগার কেন?



ব্লগার সম্পূর্ণ ফ্রী একটি সেবা। ব্লগার ব্যবহার করার জন্য কোন খরচ নেই, কোন ফি নেই। ব্যবহার করা খুব সহজ। WordPress অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি Blogging প্লাটফর্ম কিন্তু ব্যবহার করা অনেকটাই কঠিন। ব্লগিং শুরুর সময় WordPress দিয়ে শুরু করলে অনেক কিছুই Newbie হিসেবে বোঝা যায় না এবং ব্যবহারও ঠিকমত করা সম্ভব হয়ে উঠে না। সে হিসেবে Blogger ব্যবহার করা খুবই সোজা। যে কেউ Blogger বুঝতে পারবে এবং ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া Blogger সরাসরি Google এর প্রদত্ত সেবা, ইন্টারনেট দুনিয়ায় Google এর প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে কিছুই নেই...। এছাড়াও,

*আপনি আপনার ব্লগার একাউন্ট দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। একটি ব্লগার একাউন্ট থে সর্বোচ্চ ১০০টি ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।
*একটি ব্লগে আপনি আনলিমিটেড পোস্ট করতে পারবেন। ব্লগার কোন পোস্ট ডিলেট বা এডিট করবে না এবং কোন পোস্টের দায় নিবে না, পোস্ট ডিলিট, এডিট এবং পোস্টের দায় আপনার।
*কোন পোস্টে আনলিমিটেড কমেন্ট হতে পারে। কমেন্টের ক্ষেত্রেও ডিলিট, এডিট এবং দায় আপনার।
*পোস্টের সাইজ যত ইচ্ছা তত হতে পারে। পোস্টের সাইজের ব্যাপারেও কোন নিয়ম নেই।
*আপনি চাইলে আপনার ব্লগে আনলিমিটেড অতিথি লেখক যুক্ত করতে পারেন। তাদের সবাই ব্লগে লিখতে পারবে।
*ব্লগ লিখে আয়ের সেরা মাধ্যম হল AdSense, যার মালিক Google আবার Blogger এর মালিকও Google যার ফলে অল্প কিছু ভিজিটর ও সামান্য পোস্ট থাকলেও ব্লগার থেকে এডসেন্সে এপ্লাই করা যায় এবং এপ্রুভও পাওয়া যায়। যার ফলে ব্লগার থেকে ভাল টাকা আয় করা সম্ভব।

এতশত সুবিধা থাকতে ব্লগার ছেড়ে আর কি ইউস করবেন?????


Blogger এ ব্লগ তৈরি:

Blogger ব্যবহার করে ব্লগ তৈরি করতে চাইলে প্রথমেই প্রয়োজন জিমেইল একাউন্টের। Gmail একাউন্ট না থাকলে করে নিন। Gmail থাকলে বা করে নেবার পর এখানে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর আপনি নিচের মত পেজ দেখতে পাবেন। 'আপনার ব্লগ তৈরি করুন' অথবা 'সাইন ইন করুন' এর উপর ক্লিক করুন।


আপনাকে সাইন ইন করতে বলা হবে। জিমেইল একাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করুন।



সাইন ইন করার পর আপনার প্রোফাইল নিশ্চিত করতে বলবে ভাষা ও অন্যান্য সেটিংস ঠিক করার পর 'ব্লগার এ অবিরত রাখুন' এর উপর ক্লিক করুন।


নতুন ব্লগার থিমগুল ব্যবহার করে দেখার কথা বলবে 'হয়ত পরে' এর উপর ক্লিক করুন।


আপনার ব্লগার ড্যাসবোর্ডে পৌছে যাবেন। নতুন একটি ব্লগ তৈরির জন্য 'নতুন ব্লগ তৈরি করুন' এর উপর ক্লিক করুন।



ব্লগ তৈরির জন্য একটি ফর্ম আসবে।
*শিরোনাম ঘরে আপনার ব্লগের জন্য পছন্দমত একটা নাম দিন।
*ঠিকানা ঘরে ব্লগের জন্য উপলভ্য একটি ঠিকানা দিন(এটিই হবে আপনার ব্লগের URL এড্রেস)। তারপর ইচ্ছামত থিম সিলেক্ট করে 'ব্লগ তৈরি করুন' এর উপর ক্লিক করুন।

আপনার ব্লগ তৈরি হয়ে যাবে। 'ব্লগ দেখুন' এ গিয়ে আপনি আপনার ব্লগ দেখতে পারবেন।

ব্লগের নাম এবং ঠিকানাসহ ব্লগ দেখতে পাবেন।



আজ এ পর্যন্তই। আগামী পর্বে ব্লগারের ড্যাসবোর্ডের বিভিন্ন টুলসের কার্যকারিতা ও ব্যবহার এবং ব্লগে পোস্ট করার নিয়মাবলি নিয়ে হাজির হব ইনশাল্লাহ।